ইসলামিক মতে মানুষের জীবিত থাকাকালীন কর্মসূমুহ



ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষের জীবনের উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা। এ জন্য মানুষকে বিভিন্ন ধরনের নেক আমল ও ইবাদত করতে বলা হয়েছে। ইসলামে মানুষের জীবনের কর্মগুলো মূলত দুটি ভাগে বিভক্ত:

১. আল্লাহর প্রতি ইবাদত

মানুষের প্রধান দায়িত্ব হলো আল্লাহর ইবাদত করা। এ সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো:

  • নামাজ: দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা।
  • রোজা: রমজান মাসে রোজা রাখা।
  • যাকাত: সম্পদের একটি নির্দিষ্ট অংশ গরিবদের জন্য দান করা।
  • হজ: সামর্থ্য থাকলে জীবনে একবার হজ পালন করা।
  • কুরআন তিলাওয়াত: নিয়মিত কুরআন পাঠ করা এবং এর শিক্ষা মেনে চলা।
  • দুয়া ও জিকির: আল্লাহকে স্মরণ করা এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করা।

২. মানুষের প্রতি দায়িত্ব ও আচার-ব্যবহার

মানুষের প্রতি সদাচরণ ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। এ সম্পর্কিত কিছু কর্ম:

  • সদাচরণ: পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী এবং সমাজের প্রতি সদাচরণ করা।
  • পরোপকার: গরিব, অসহায় এবং মুসাফিরদের সাহায্য করা।
  • অন্যায় ও পাপ থেকে বিরত থাকা: মিথ্যা, চুরি, জুলুম, পরনিন্দা ইত্যাদি এড়িয়ে চলা।
  • ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা: ব্যক্তিগত এবং সামাজিক জীবনে সুবিচার করা।
  • পরিবারের যত্ন নেওয়া: পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের প্রতি দায়িত্ব পালন করা।

৩. নৈতিকতা ও আত্মশুদ্ধি

ইসলামে নৈতিক উন্নতি ও আত্মশুদ্ধিকে খুব গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এটি অর্জনের জন্য:

  • তাওবা: পাপের জন্য আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া।
  • সবর (ধৈর্য): জীবনের প্রতিকূলতায় ধৈর্য ধারণ করা।
  • শোকর (কৃতজ্ঞতা): আল্লাহর দেওয়া সকল নিয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞ থাকা।
  • তাকওয়া: আল্লাহভীতি অন্তরে লালন করা।

৪. জ্ঞানার্জন

ইসলাম জ্ঞানার্জনকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। ধর্মীয় ও পার্থিব উভয় বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করা মানুষকে উন্নত করে এবং আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা বৃদ্ধি করে।

৫. সমাজসেবা

  • সমাজে শান্তি ও সুবিচার প্রতিষ্ঠায় কাজ করা।
  • মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও সহানুভূতি বৃদ্ধি করা।
  • দুর্নীতি, অন্যায় ও পাপমূলক কাজ থেকে সমাজকে রক্ষা করা।

সারসংক্ষেপ

মানুষের জীবনের প্রতিটি কর্মকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য নিবেদিত করা ইসলামের মূল শিক্ষা। ইবাদত, সদাচরণ, নৈতিকতা, জ্ঞানার্জন এবং সমাজসেবা—এই সবগুলো ইসলামী জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দিক।

Comments

Popular posts from this blog